৪০৫ কোটি টাকার প্রকল্পমৌলিক অধিকার পাবে তিন পার্বত্য জেলার মানুষ

রবিবার মার্চ ২৫, ২০১৮ ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
লেখাটি এই যাবৎ ৫ বার পঠিত হয়েছে

দেশের তিন পার্বত্য অঞ্চল জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের লাখ লাখ আদিবাসী পরিবার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। এরকম প্রায় পৌনে ২ লাখ পরিবারের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ৪০৫ কোটি টাকার এ প্রকল্পে লক্ষাধিক পাহাড়ি শিশু পাবে শিক্ষার আলো। এপ্রিলে একনেক সভা এ প্রকল্প উপস্থাপরের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা নিয়ে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রামের আয়তন ১৩ হাজার ২৯৪ বর্গকিলোমিটার। এ অঞ্চলের জনসংখ্যা ১৫ লাখের কিছু বেশি। ভূপ্রকৃতি, বৈচিত্র্যপূর্ণ ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ, প্রথা ও জীবনযাত্রার প্রকৃতি দেশের অন্য অঞ্চলের তুলনায় ভিন্নতর। এ অঞ্চলের অর্ধেক জনগোষ্ঠী সমতলের বাঙালি। বাকি অর্ধেক জনগোষ্ঠী ১১টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীতে বিভক্ত। তারা ছোট ছোট গ্রামে বাস করে, যা পাড়া নামে পরিচিত।

পাহাড়ি পরিবারগুলোর অধিকাংশের বাস পাহাড়ের গহিনে, পাকা সড়ক থেকে বহু দূরে। যোগাযোগ সহজগম্য না হওয়া এবং অসচেতনতার কারণে তারা সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। আবার একই এলকায় সেবার ক্ষেত্রে বৈষম্যও বিদ্যমান। অপরদিকে পাহাড়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেও এ অঞ্চলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। আবার অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আর সব ক্ষেত্রের মতো শিক্ষাদীক্ষায়ও বেশ পিছিয়ে আছেন পাহাড়িরা। শিশুরাও বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষা থেকে। বিদেশি অনুদাননির্ভর বেসরকারি কয়েকটি উন্নয়ন সংস্থা কিছু অস্থায়ী স্কুল স্থাপন করে শিক্ষা সেবা দিচ্ছে; রয়েছে কিছু মিশনারিজ স্কুলও। তবে অনেকটা জোড়াতালি দিয়েই শিক্ষাদান চলছে কোনোরকমে।

এজন্য আলোচ্য পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রকল্পটি তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ২৬টি উপজেলার ১২১টি ইউনিয়নে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন হবে। এ এলাকায় মৌলিক সেবার সুযোগ বৃদ্ধি, সবার জন্য শিক্ষা, মা ও শিশুর উন্নয়ন, শিশুদের জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন বিষয় যেমন স্বাস্থ্য, পুষ্টি, স্যানিটেশন, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার পরিবারের ন্যূনতম মৌলিক সুবিধা প্রদান। এসব পবিবারের স্কুল গমনোপযোগী ১ লাখ ৭ হাজার ৫০০ শিশুকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হবে।
এছাড়া নির্বাচিত পরিবারের শিশু, কিশোরী ও মহিলাদের অপুষ্টিজনিত ঘাটতি হ্রাসকরণ, এসব পরিবারকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ, পার্বত্য এলাকার ৪ হাজার ৫০০ পাড়াকেন্দ্র উন্নয়ন, পাড়া কর্মীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে। আবার স্থানীয় কমিউনিটির সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পার্বত্য চট্টগ্রামে কাজ করা উন্নয়ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় ও সম্পৃক্ততা বাড়ানো।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের মধ্যে প্রকল্পে প্রস্তাবিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ড। মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০৫ কোটি টাকা। এতে বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে ২৯৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা এবং জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) থেকে আসবে ১১১ কোটি ১১ লাখ টাকা।

প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ৪ হাজার ৫০০ পাড়া কর্মীর সামর্থ্য বৃদ্ধি করা, মহিলা ও শিশুদের টিকাদান, পাড়াকেন্দ্রে গর্ভবতী ও প্রসূতির সেবা এবং পরামর্শ কার্যক্রম পরিচালনা, জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গর্ভ ও প্রসবকালীন সেবা বৃদ্ধি, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা ইত্যাদি।

এছাড়া তিন জেলার নারী ও শিশুদের জন্য মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট সাপ্লিমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা, পাড়াকেন্দ্রের মাধ্যমে অপুষ্টির পরিমাণ নির্ণয় ও ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি নেওয়া, শিশুদের বিকাশ পর্যবেক্ষণ ও তার তথ্য সংরক্ষণ, পুষ্টি পরিমাপক যন্ত্রপাতি ও পুষ্টি পরিপূরক ওষুধ সরবরাহ। একই সঙ্গে পাড়াকেন্দ্র ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নত ওয়াশ ফ্যাসিলিটি সৃষ্টি করা, পানি পয়ঃব্যবস্থা ও হাইজিন অভ্যাস গড়ে তোলা, কিশোরীদের পরিচালনায় পরীক্ষামূলক স্যানিমার্ট স্থাপন ইত্যাদি। অপরদিকে শিক্ষা ও শিশু সুরক্ষার আওতায় পাড়াকেন্দ্রের ৩ থেকে ৫ বছর বয়সি শিশুদের জন্য মাতৃভাষাভিত্তিক শিশু বিকাশ ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা, শতভাগ শিশুর জন্মনিবন্ধনে সহায়তা করা, কিশোরীদের ক্ষমতায়ন কর্মসূচি গ্রহণ, কমিউনিটিভিত্তিক শিশু সুরক্ষা কার্যকর করা। কিশোরী ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হবে।

সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাড়াকেন্দ্র উন্নয়ন, উঠান বৈঠক, পরিবার পরিদর্শন, কমিউনিটি সভা আয়োজন করা, পাহাড়ি যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ, পাড়াকেন্দ্রে বয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচি চালানো এবং শিশুদের জন্য উচ্চ ক্যালরিযুক্ত বিস্কুট বিতরণ করা হবে।

ডেস্ক / টিএ / ২০১৮ / ০৩২৫
Purchase online Cialis Super Active – Purchase Generic Cialis Super Active Online

Purchase Generic Cialis Super Active Online Rating 4.5 stars, based on 52 comments He wrote this purchase online Cialis Super [বিস্তারিত]

Where I Can Buy Levitra. Best Vardenafil Order

Best Vardenafil Order Rating 4.6 stars, based on 196 comments Pharmacy. Levitra Tablet Price New clothes case is terletak pada [বিস্তারিত]

How To Get Imigran From Canada. Free Delivery

How To Get Imigran From Canada Rating 4.8 stars, based on 55 comments Use examples to rooms in winter she [বিস্তারিত]

Where To Buy Duloxetine Without A Prescription

Where To Buy Duloxetine Without A Prescription Rating 4.6 stars, based on 158 comments Where To Buy Duloxetine Without A [বিস্তারিত]

মতামত জানান