রাজশাহীতে শিশু মৃত্যু নিয়ে রহস্য, থানায় বাবা ও সৎ মা

শুক্রবার এপ্রিল ৩০, ২০২১ ৬:২৭ অপরাহ্ণ
লেখাটি এই যাবৎ ৮ বার পঠিত হয়েছে

রাজশাহীর বাগমারার সাত বছর বয়সী শিশু মারুফ মারা যাওয়ায় দাফনের জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। জানাজার জন্য লোকজনও এসেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জানাজা হয়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাফনের কাপড়ে মোড়ানো শিশু মারুফ হাসানের (৭) লাশ শুক্রবার দুপুর দেড়টায় উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশুর বাবা শাহাজাহান আলী, সৎ মা মুক্তা খাতুন, দুই চাচা আজিম ও কাজিম আলীকে থানায় নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রামে।

মারুফ হাসান উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের শাহাজাহান আলীর দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে। শিশুর মায়ের অভিযোগ, বাবা ও সৎ মা তার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দাবি, শিশুটিকে জিনে মেরে ফেলেছে।
পুলিশ ও এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার সকালে শিশু মারুফ হাসানকে বাড়িতে সৎ মায়ের কাছে রেখে শাহাজাহান আলী কাজের জন্য বাইরে যান। শিশুটি অস্বাভাবিক আচরণ করছে বলে সৎ মা মুক্তা বেগম মোবাইল ফোনে তার স্বামীকে জানান। স্বামীর পরামর্শে স্থানীয় কবিরাজের কাছ থেকে ফুঁক দেওয়া পানি শিশুর নাকে মুখে পানি ছিটিয়ে দেওয়া হয়। এতে কোনো উন্নতি হয়নি। একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে। এসময় চাচা ও প্রতিবেশীরাও ছুটে এসে শিশুর চেতনা ফেরানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। পরে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে শিশুটি মারা যায়।

মৃত্যুর পর সকাল সাড়ে ১০টায় লাশ দাফনের আয়োজন করা হয়। এ জন্য কাফনের কাপড়ে মোড়ানোসহ সব প্রস্তুতিও নেওয়া হয়। অনেক স্বজনও বাড়িতে আসেন লাশ দাফনের জন্য। দাফনের আগ মুহূর্তে ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে মা মারুফা বেগমও স্বামীর বাড়ি থেকে ছুটে আসেন। ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুর লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। এদিকে লাশ দাফনের জন্য আসা লোকজন ফিরে যান।

স্থানীয় লোকজন বলেন, শাহাজাহান আলীর তিন স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর মারুফা বেগমকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেন। তাদের প্রথম সন্তান মারুফ হাসানের জন্ম হয়। দুই বছর আগে মারুফার সঙ্গে শাহাজাহানের ছাড়াছাড়ি হয়। এরপর মারুফ হাসান তার বাবার কাছে থাকত। এক বছর আগে শাহাজাহান মুক্তা খাতুন (২২) নামে এক নারীকে বিয়ে করে রাজশাহী শহরে বসবাস করেন। পাঁচ মাস আগে গ্রামের বাড়ি বিনোদপুরে ফিরে এসে দিনমজুরির কাজ শুরু করেন শাহাজাহান। তখন থেকে সৎ মায়ের কাছেই থাকত মারুফ হাসান।

শাহাজাহান আলী, মুক্তা ও কয়েকজন প্রতিবেশী বলেন, মারুফ প্রায়ই অস্বাভাবিক আচরণ করত। মাঝেমধ্যে অচেতন হয়ে যেত। তাকে জিনে ধরেছে বলে এত দিন ঝাড়ফুঁক দেওয়া হতো। তাদের ধারণা, জিনেই তাকে মেরে ফেলেছে। শিশুকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি।

বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন কুমার জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। এখনও মামলা হয়নি। তবে শিশুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন বা হত্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য উদ্ধার করা হয়েছে।

ডেস্ক / এমজিজে / ২০২১ / ০৪৩০
ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধর ও মামলার প্রতিবাদে সিলেটে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের মানববন্ধন

সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলায় ব্যাংক কর্মকর্তা বিকাশ রঞ্জন সরকারকে (৫৫) মারধর, অবরুদ্ধ করে রাখা ও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সিলেটের [বিস্তারিত]

ফেনীতে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে চাচাতো বোনকে হত্যা করলো জেঠাতো ভাই

ফেনীতে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে সৌদি প্রবাসীর মেয়েকে গলাকেটে খুন। জানা যায়, ফেনী সদরের কালিদহে চাচাতো বোনকে ধর্ষণে ব্যর্থ হবার পর [বিস্তারিত]

শুভ্র হত্যা মামলার চার্জশিট দেওয়ার পরদিন বাদীর ওপর হামলা, আটক ৫

ময়মনসিংহের গৌরীপুর স্বেচ্ছাসেকলীগ নেতা মাসুদুর রহমান শুভ্র হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিলের পরদিন মামলার বাদী নিহতের ছোট ভাই আবিদুর রহমান প্রান্ত [বিস্তারিত]

পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর তথ্য সত্য নয়: সেতুমন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, করোনার কারণে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়েছে [বিস্তারিত]

মতামত জানান