রোমাঞ্চকর ম্যাচে লঙ্কানদের হারাল বাংলাদেশ ‘এ’ দল

ক্রিকেট

তিন বলের মধ্যে যখন অষ্টম ও নবম উইকেটের পতন হলো, জয় তখনও ৩৭ রান দূরে। সেই ম্যাচেও নাটকীয়ভাবে জয়ের দুয়ারে চলে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা ‘এ।’ শেষ পর্যন্ত স্নায়ুর চাপকে জয় করে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটি জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল।

তিন ম্যাচের আনঅফিসিয়াল ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলকে ২ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ ‘এ।’

সিলেটে মঙ্গলবার বাংলাদেশের ২৮০ রান তাড়ায় লঙ্কানরা গুটিয়ে যায় ২৭৮ রানে।

শেষ বলে লঙ্কানদের প্রয়োজন ছিল ৩ রান। স্ট্রাইকে ছিলেন তিন ছক্কায় দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যাওয়া শেহান মাদুশঙ্কা। কিন্তু এই লঙ্কান পেসারকে আউট করেন সিলেটের পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদ।

‌আনঅফিসিয়াল টেস্ট সিরিজে ভালো করা লাহিরু থিরিমান্নে, শেহান জয়াসুরিয়াদের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজে লঙ্কানরা আরও শক্তি বাড়িয়েছে থিসারা পেরেরা, উপুল থারাঙ্গা, দাসুন শানাকাদের মতো ক্রিকেটারদের যোগ করে। জয়টা শেষ পর্যন্ত কষ্টের হলেও তাই কৃতিত্ব প্রাপ্য বাংলাদেশের।

শেষ ভাগের মতো পুরো ম্যাচই ছিল উত্থান-পতন আর নাটকীয়তায় ঠাসা। ইনিংসের অর্ধেকের বেশি জুড়ে বাংলাদেশের ইনিংস ছিল গতিহারা। সেখান থেকে দল ঘুরে দাঁড়ায় মিডল অর্ডারে। শেষ দিকে ঝড় তোলেন আরিফুল হক। শেষ ৯ ওভারে ১০৬ রান তুলে বাংলাদেশ যেতে পারে ২৮০ পর্যন্ত।
লঙ্কানরা রান তাড়ায় ৭২ রানে হারিয়েছিল ৪ উইকেট। সেখান থেকে পরে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। তবে আবার খেই হারায় ৪০ ওভারের পর। শেষ দিকে আবার ম্যাচ জমিয়ে দেয় শেষ জুটি। তার পর শেষ বলে রূদ্ধশ্বাস সমাপ্তি।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ছিল মন্থর। সৌম্য সরকার ক্রিজে ছিলেন, উইকেট পড়েনি একটিও, তার পরও ১২ ওভারে রান ছিল ৪২।

সৌম্যর বিদায়েই ভেঙেছে জুটি। ১টি করে চার ও ছক্কায় ৩৪ বলে করেছেন ২৪।

মিজানের সঙ্গে জাকির হাসানের দ্বিতীয় উইকেট জুটিও খুব বাড়াতে পারেনি গতি। ২৬ বলে ১৮ রান করে ফেরেন বাঁহাতি জাকির।

ঘরোয়া লিগে দারুণ মৌসুম কাটানো মিজান এদিন হিমশিম খেয়েছেন রানের গতি বাড়াতে। চারটি চার ও তিনটি ছক্কা মারলেও ৬৭ রান করতে বল খেলেছেন ১০৭টি। মাদুশঙ্কার বলে যখন তিনি বিদায় নিলেন, দলের রান তখন ৩০ ওভারে ১২০।

দলের ইনিংস গতিময় হয় চতুর্থ উইকেট জুটিতে। মোহাম্মদ মিঠুন ও ফজলে মাহমুদ রাব্বি ৯৫ রানের জুটি গড়েন ৮৭ বলে।
দুটি করে চার ও ছক্কায় ৬৩ বলে ৫৯ করে ফেরেন বাঁহাতি ফজলে রাব্বি। অধিনায়ক মিঠুন ৪৪ করেন ৪৪ বলে।

শেষ দিকে সহজাত আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে আরিফুল করেন ২২ বলে ৪৭। তিনটি চারের সঙ্গে ইনিংসে ছক্কা চারটি। শেষ ৫ ওভারে বাংলাদেশ ‘এ’ তোলে ৬২ রান।

শেষের ব্যাটিংয়ে উজ্জীবিত বাংলাদেশ বোলিংয়ে শুরুটাও করে ভালো। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে সাদিরা সামারাবিক্রমাকে ফেরান তরুণ বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। পরের ওভারেই অভিজ্ঞ উপুল থারাঙ্গাকে বোল্ড করে দেন খালেদ।

তৃতীয় ওভারে লাহিরু থিরিমান্নে ও শেহান জয়াসুরিয়ার ৫২ রানের জুটি ভাঙে জয়াসুরিয়ার রান আউটে।

থিরিমান্নে ও আশান প্রিয়াঞ্জন থিতু হয়ে গিয়েছিলেন। ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও জ্বলে ওঠা আরিফুল ফেরান এই দুজনকেই।

সেই চাপ সরিয়ে দলকে এগিয়ে নেন দাসুন শানাকা ও থিসারা পেরেরা। দুই আগ্রাসী ব্যাটসম্যান উল্টো চাপে ফেলে দেন বাংলাদেশকেই।

থিসারার ঝড় অবশ্য খুব বেশি স্থায়ী হয়নি। ফিরেছেন দুই চার ও ১ ছক্কায় ২০ রান করে। তবে শানাকা ঘাম ঝরিয়ে ছাড়েন বাংলাদেশের। ৭৮ বলে ৭৮ করেছেন ৬টি ছক্কায়!
৪৬তম ওভারে তাকে থামান বোলিং আক্রমণে ফেরা খালেদ। পরের ওভারে শরিফুল তিন বলের মধ্যে নেন দুটি উইকেট। ২৪৪ রানে নেই শ্রীলঙ্কার ৯ উইকেট, বাংলাদেশ অপেক্ষায় আনুষ্ঠানিকতার।

কিন্তু মাদুশঙ্কা হাল ছাড়েননি। তিন ছক্কায় আশা দেখায় লঙ্কানদের। শেষ ব্যাটসম্যান নিশান পেইরিস সঙ্গ দিয়েছেন দারুণ। তবে শেষ পর্যন্ত শেষ বল স্বস্তি দিয়েছে বাংলাদেশকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ‘এ’: ৫০ ওভারে ২৮০/৭ (মিজানুর ৬৭, সৌম্য ২৪, জাকির ১৮, ফজলে রাব্বি ৫৯, মিঠুন ৪৪, আরিফুল ৪৭, আল আমিন ৮*, সানজামুল ০, নাঈম ১*; মাদুশাঙ্কা ১/৬১, শানাকা ০/২৪, জয়াসুরিয়া ১/৩৯, থিসারা ১/৪৪, পুস্পকুমারা ১/৪৪, পেইরিস ০/৬৭)।

শ্রীলঙ্কা ‘এ’: ৫০ ওভারে ২৭৮ (সামারাবিক্রমা ৩, থারাঙ্গা ১০, থিরিমান্নে ২৯, জয়াসুরিয়া ২০, প্রিয়াঞ্জন ৪২, শানাকা ৭৮, থিসারা ২০, শাম্মু ২৮, মাদুশঙ্কা ২১, পুস্পকুমারা ০, পেইরিস ১১*; খালেদ ১০-০-৭২-৪, শরিফুল ১০-০-৫৪-৩, আল আমিন ৩-১-১৩-০, নাঈম ৫-০-১৩-০, আরিফুল ৮-০-৪২-২, সানজামুল ৬-০-২৯-০, সৌম্য ৮-০-৫০-০)

ফল: বাংলাদেশ ‘এ’ ২ রান জয়ী

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ‘এ’ ১-০তে এগিয়ে

ম্যান অব দা ম্যাচ: আরিফুল হক