বাংলাদেশের প্রসংসায় পঞ্চমুখ ধাওয়ান,টাইগারদের হালকা ভাবে নিচ্ছেন না ভারত

ক্রিকেট

এশিয়া কাপের আসর শুরু হলেই চোখের সামনে ভেসে আসে ২০১২ সালের স্মৃতি। সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিমদের কান্নাভেজা চোখের ছবি আজও চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে। ‘হোম অব গ্রাউন্ড’ মিরপুরে ওই আসরের ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই রানের হারের ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন কোটি কোটি টাইগারভক্ত।
শিরোপা হারানোর বেদনায় সাকিব, মুশফিকদের সঙ্গে কেঁদেছেন মাঠের ভেতরে ও বাইরে থাকা টাইগারভক্তরা। ২০১৬ সালে এশিয়া কাপের ফারম্যাটে আসে পরিবর্তন। ৫০ ওভারের ম্যাচের পরিবর্তে খেলা হয় টি২০ ফরম্যাটে। এবারও শিরোপা হাতছাড়া। এবার প্রতিপক্ষ ভারত। তবে হারের ব্যবধানটা অনেক বেশি। ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ।

দুই বছর পর আবারও মাঠে গড়িয়েছে এশিয়া কাপের আসর। ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের মুখোমুখি আবারও বাংলাদেশ। আজ শুক্রবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় মাঠে গড়াবে ১৪তম আসরের ফাইনাল।
এশিয়া কাপের এবারের আসরে বাংলাদেশ তিনটি জয় ও দুটিতে পরাজিত হয়েছে বলে ইউএনবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অন্যদিকে ভারত এখনো টুর্নামেন্টে হারের স্বাদ পায়নি। সর্বশেষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারতে হারতে ড্র করেছে ভারত।
গত কয়েক বছর ভারতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ উপহার দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। গত টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে ১ রানে হারে বাংলাদেশ। ব্যাটসম্যানদের ভুলের কারণে এই পরাজয়ও কান্নার সাগরে ভাসিয়ে দেয় টাইগারভক্তদের। এ ছাড়া সর্বশেষ নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে শেষ ওভারে এসে পরাজয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ।
আজকের ম্যাচেও এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা টাইগাররা উপহার দেবেন এমন প্রত্যাশাই সবার। আর টাইগাররা যতি তাদের সেরাটা উপহার দিতে পারে, তাহলে শিরোপার খরাটাও ঘুচবে এমনটাই মনে করেন কোটি কোটি টাইগার সমর্থক।
কাগজে-কলমে ভারত অনেক শক্তিশালী দল। অন্যদিকে বাংলাদেশ শিবিরে রয়েছে ইনজুরির ক্ষত। ইনজুরিতে পড়ে দলে নেই তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। পাশাপাশি মাশরাফি ও মুশফিকুর রহিমও ইনজুরি নিয়েই খেলছেন। এ ছাড়া আবুধাবি থেকে দুবাইয়ে গিয়ে খেলতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ভ্রমণের ক্লান্তিও তো রয়ে গেছে দলে।
তারপরও বাংলাদেশকে খাটো করে দেখছেন না ভারতের সহ-অধিনায়ক শিখর ধাওয়ান। তাঁর ভাষ্য, ভালো ক্রিকেট খেলেই বাংলাদেশ প্রতিপক্ষ পাকিস্তানকে হারিয়েছে। যে দল পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে এসেছে, তাদের হালকাভাবে দেখছেন না তিনি। ভারতের সহ-অধিনায়ক বলছিলেন, ‘এটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জিং একটা ফাইনাল হবে। ফেভারিট তত্ত্ব সব সময় কাজে লাগে না। সবাই তো ভেবেছিল, ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল হবে; কিন্তু বাংলাদেশ সেটা ভুল প্রমাণ করেছে। এ কারণেই বাংলাদেশকে হালকা করে নেওবার কারণ নেই। ওদের অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা চাপ নিতে জানে।’
তবে আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের হারানোর কিছু নেই। দলের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মিডলঅর্ডারে দারুণ ছন্দে থাকা মোহাম্মদ মিঠুন ও ইমরুল কায়েস এবং বাকি দু-একজন ব্যাটসম্যান যদি তাঁদের দায়িত্বটা ঠিকমতো পালন করতে পারেন, তাহলে ভালো কিছুই হতে পারে।
এ ছাড়া বল হাতে এবারের আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (১৮টি) উইকেট শিকারি মুস্তাফিজুর রহমান। স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ, অধিনায়ক মাশরাফি ও রুবেল হোসেন যদি জ্বলে উঠতে পারেন তাহলে প্রথমবার এশিয়া কাপের শিরোপাও ঘরে তুলতে পারবে টাইগাররা।