মনোহরগঞ্জে শ্বশুর বাড়িতে জামাইয়ের হামলা

কুমিল্লা

মনোহরগঞ্জে জামাইর নেতৃত্বে শ্বশুর বাড়িসহ স্থানীয় কয়েকটি বাড়ির প্রায় ১৫টি বসত ঘরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

গত বুধবার রাতে উপজেলার সরশপুর ইউনিয়নের শ্রীধর পুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হামলাকারীরা হলো আমান উল্লাহ ফয়েজ, সুমন, ইয়াছিন, জহির, আনোয়ার হোসেন রিপন, মিন্টু, মোহাম্মদ, সোহাগ, দেলোয়ার।

হামলায় নুর মিয়া, সামছুল হক, সফিউল্লাহ, আবুল কালাম, আবুল কাশেম, রফিকুল্লাহ, সফিকুল্লাহ, ইয়াছিন মিয়া, রাজ্জাক, মজিবুল হক, লোকমান হোসেন, সাবেক মেম্বার আলী আকবর ও গফুর মিয়ার বসত ঘর ভাঙচুর ও ঘরে থাকা মূল্যবান মালমাল লুটপাট করা হয়।

এ ছাড়া দেলোয়ার ও মীর হোসেনর দোকানে ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট ও ক্যাশ থেকে নগদ টাকা নিয়ে যায় হামলাকারীরা।

এ ঘটনায় তাজুল ইসলাম (১৮), আমির হোসেন (১৮) সহ প্রায় ৫ জন আহত হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় সরশপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

জানা যায়, শ্রীধরপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের মেয়ে নুরুন্নাহারের পার্শ্ববর্তী রুদ্রপুর (সাটরা) গ্রামের সিরাজ উল্লাহর ছেলে আমান উল্লাহ ফয়েজের সাথে বিয়ে হয়। কিন্তু দাম্পত্য জীবন সুখের হয়নি নুরুন্নাহারের। দেখা দেয় পারিবারিক কলহ ও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ। ফয়েজ প্রায়শঃ নুরুন্নাহারের উপর মারধরসহ বিভিন্ন নির্যাতন চালায়।

গত ২৫ মে নুরুন্নাহারকে মারধর করে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। পরে গত ৩০ মে বুধবার উভয়ে পক্ষের মধ্যে সালিশ-বৈঠক স্থানীয় আলোকপাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়। সালিশ-বৈঠকে আমান উল্লাহ ফয়েজের নেতৃত্বে সালিদারদের উপর হামলা চালানোর চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি ঘটনা ঘটে।

উক্ত ঘটনার জের ধরে ওইদিন রাতে জামাই ফয়েজের নেতৃত্বে শ্বশুর বাড়িসহ স্থানীয় কয়েকটি বাড়িতে হামলায় চালায় সন্ত্রাসীরা। ন্যাঙ্কারজনক ওই হামলায় ঘরের খাবার প্লেটটিও রক্ষা পায়নি।

নির্যাতিত গৃহবধুর পিতা নুরুল ইসলাম জানান, জামাই ফয়েজ তার পরিবারের লোকজন আমার মেয়ের উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। তারা আমার মেয়েকে মারধর করে আমার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনায় বিচার চাওয়ায় জামাই ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা আমার বাড়ি-ঘরসহ প্রতিবেশীর বাড়ি-ঘরে হামলা চালায়। উক্ত ঘটনায় মামলা করলে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে তারা। বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।

এ ঘটনায় উপযুক্ত বিচার দাবী এলাকাবাসীর।