বিশ্বে তামাক মহামারিতে মৃত্যুর সংখ্যা ৭০ লাখ’

স্বাস্থ্য

বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যুর প্রায় ৩১ শতাংশই হৃদরোগজনিত, যার ১২ শতাংশ তামাক ব্যবহার ও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে বলে দাবি করেছে একটি তামাকবিরোধী সংগঠন।

বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবসের আগের দিন বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তামাকবিরোধী সংগঠন প্রগতির জন্য জ্ঞান ‘প্রজ্ঞা’র পক্ষ থেকে বলা হয়, “তামাকের নেশার ছোবল পৃথিবীতে প্রতি ৬ সেকেন্ডের কম সময়ে একজন মারা যায়। তামাক মহামারিতে এভাবে প্রতি বছর মৃত্যুসংখ্যা ৭০ লাখ। পরোক্ষ ধূমপানে মৃত্যুবরণ করে আরো নয় লাখ অধূমপায়ী মানুষ।”
সেখানে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৫ সালের তথ্য মতে, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ বা হৃদরোগ বিশ্বের মোট মৃত্যুর একক কারণ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে।

“বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যুর প্রায় ৩১ শতাংশই হৃদরোগজনিত মৃত্যু। এর এক-তৃতীয়াংশই ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। এই হৃদরোগজনিত মৃত্যুর প্রায় ১২ শতাংশের জন্য দায়ী তামাক ব্যবহার এবং পরোক্ষ ধূমপান।”

বর্তমানে বিশ্বে মোট তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১ বিলিয়ন, যার ৮০ শতাংশই বসবাস করে নিম্ন বা মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বলেও জানানো হয়।

তামাকের ভয়াবহতা পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে তুলে ধরার যে প্রতিশ্রুতি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রজ্ঞার এক অনুষ্ঠানে দিয়েছিলেন তা বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজ করবে বলে বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বক্তব্য রাখেন।

গত ২৭ মে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০১৮ প্রদান এবং বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উদযাপন’ অনুষ্ঠানে তামাকের ক্ষতিকর দিকগুলো ২০২০ সালের স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছিলেন, “আমরা আগামী বছর থেকে পাঠ্যপুস্তকে তামাক বন্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করব। ”

গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে ২০০৯ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫ থেকে ৬৪ বছরের বয়স্কদের মধ্যে শতকরা ৪৩.৪ ভাগ অর্থ্যাৎ চার কোটি ৩০ লাখ মানুষ তামাক সেবন করে। আর পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন প্রায় সাড়ে চার কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ বুলেটিন ২০১৭ অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সময়কালে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৪১.৩ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দ্য ইন্সটিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের (আইএইচএমই) সর্বশেষ তথ্য থেকে জানানো হয়, ২০০৫ থেকে ২০১৬ সময়কালে বাংলাদেশে অকাল মৃত্যুর কারণের তালিকায় হৃদরোগ সপ্তম স্থান থেকে প্রথম স্থানে উঠে এসেছে। এই পরিবর্তনের হার ৫২.৭ শতাংশ।

“আর এই মৃত্যুর জন্য দায়ী তামাকের অবস্থান চতুর্থ।”

এবারের বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পাবলিক প্লেসে ও পরিবহনে ধূমপান, তামাকপণ্যের মোড়কে আইন অনুযায়ী সচিত্র সর্তকবার্তা মৃদ্রণ, তামাকপণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতাসহ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারাগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে প্রজ্ঞা।

তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর হতে আগামী বাজেটে তামাকের উপর কর বাড়ানোর দাবিও জানিয়ে আসছে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো।

‘তামাক ও হৃদরোগ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এবার বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত হচ্ছে।

১৯৮৭ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতিবছর ৩১ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং এর সহযোগী সংস্থাগুলো তামাকের ঝুঁকিপূর্ণ দিক তুলে ধরে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’ পালন করে থাকে।

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ও স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠন আলোচনা সভা, শোভাযাত্রার কর্মসূচি নিয়েছে।

তামাকবিরোধী প্রচারণায় ও সচেতনা সৃষ্টিতে বৃহস্পতিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আলোচনা সভা হবে এবং বেলা ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে র‌্যালি বের করা হবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে।